লিখিতে বসিয়াছি - চতুর্থ বসা

লিখিতে বসিয়াছি -নাজিমুল ইসলাম
আবারো আসিয়াছি লিখিবার দুঃসাহস লইয়া। আবারো সেই কবিতা লিখিবার দুঃসাহস। আবারো খুজিতেছি ছন্দ,উপমা,মাত্রা,,খুজিতেছি শব্দ।কিন্তু আমি যে কবি নই,তাই কবিতাও লিখিতে পারিতেছিনা।
রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া ছন্দগুলোর কতকগুলি সস্তা, কতকগুলি আমার আমার যোগ্যতার বাহিরে।
লিখিতে বসিয়া ভাবিতেছি যদি সেই বালক হইতাম। সদ্য প্রেমে নিমগ্ন সেই বালক সে বালিকার পরশের আশায় কবি হইয়াছে।
সেই বালক যে তাহার বালিকাকে লইয়া কবিতা বাধে।বালিকার কাজলাঙ্কিত নয়ন লইয়া কবিতা লেখে। সরু কাজল রেখার মতো হয় তার কবিতার চরণগুলি। বালিকার চোখের পাপড়ির ন্যায় ধারালো হয় তার কবিতার ছন্দ। বালিকার চোখের কোনে উজ্জ্বলিত হীরকের চূর্ণের ন্যায় জমিয়া থাকা অশ্রু হয় কবিতার উপমা।
বালক কবিতা লিখিতে থাকে আর বালিকা বালকের এই কাণ্ড দেখিয়া হাসিতে থাকে। বালক সেই হাসির রহস্য বুঝিতে পারে না।
সেই হাসির অর্থখানি কি হইতে পারে তা বালকের ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক হিসাব করিতে পারে না। তাহার নিকট গণিতের ক্যালকুলাস হইতে অধিক জটিলতর মনে হইতে থাকে সেই হিসেবখানি।
বালকা আবার কবিতা লেখে। বালিকার হাসি নিয়া কবিতা লেখে। বালিকার হাসি কি করিয়া তাহার চঞ্চল মনকে উদ্বেলিত করিয়া তোলে,বালক কবিতায় তা প্রকাশ করিয়া যায়। বালিকার হাসিতে মুক্তো ঝরে নি ঝড়ে না সেদিকে বালকের হুস থাকে না। সে আপন মনে দেখিতে থাকে সেই হাসি। বালিকার কন্ঠের উপমা সেই বালক কিছুতেই খুজিয়া পায় না।কাহার সাথে তুলনা করিবে সেই কন্ঠখানি,যা তাহার প্রাণে সারাক্ষণ বাজিতে থাকে। বালক উপমা খুজিতে খুজিতে ক্লান্ত হইয়া যায়, কবিতা অসমাপ্তই রয়ে যায়।
বালক আবারো লিখিতে থাকে কবিতা। বালিকার অমাবস্যার আধারের ন্যায় দীর্ঘ কেশ এর কবিতা। যেই কেশ তারে বাধিয়াছে এক অন্ধ মায়ার জালে। কিন্তুব বালকের কবিতা সেই তিমিরকুন্তল এর মতো দীর্গ হয় না। বালক কল্পনার মাঝে আরেক কল্পনায় ঢুবিয়া যায়। বালক কল্পনার করে বালিকার ঐ এলোকেশ এর মাঝে নাক ঢুবিয়ে নিশ্বাস গ্রহণ করিবার সময় তাহার কিরূপ আনন্দ হইবে। কিংবা বালিকার ভেজা চুলের ঝাপটায় তাহার প্রত্যহ ঘুম ভাঙিলে কেমন অনুভূতি হইবে।বালক ইহা ভাবিয়া সলজ্জ নিদ্রা যায়।
বালিকার ভাবনায় ভাবুক কবি স্বপনেও কবিতা লেখে। উপগ্রহ এর আলোহীন রাতে শতশত নক্ষত্র এর চাহনির মাঝে বালিকার হাত খানা তাহার বুকে রাখিয়া বসিয়া থাকিবার কবিতা। ভীত বালিকা আধারের ভয়ে বালকের বাহু শক্ত করিয়া ধরিয়া অবলম্বন করিবার কবিতা।বালিকার সেই কোমল হাত যাহাতে তৃণলতা পেচিয়া রাখিলেও তাহা স্বর্ণবালার ন্যায় শোভা পায় সেই কবিতা। বালক সেই হাত তাহার অক্ষিতে স্পর্শ করায়,বালকের ঘুম ভাঙিয়া যায়।
বালক উদাস হইয়া যায়।
আমিও উদাস বালকের ন্যায় উদাস হইয়া আছি।
আমার কবিতা লেখা হইতেছে না, আমার কবি হওয়া হইতেছে না।
আমার যে বালিকা নাই, আমার শব্দ নাই, ছন্দ নাই,উপমা নাই।
চলবে

Comments