লিখিতে বসিয়াছি - ষষ্ঠধাপে বসা

লিখিতে বসিয়াছি
                   - নাজিমুল ইসলাম
অনেকদিন বাদে আবারো বসিয়াছি লিখিতে।
প্রতিবার লিখিতে বসিয়া,কি লিখিব তাহা খুঁজিয়া পাইনে।এইবারই বা তাহার ব্যতিক্রম হইবে কেন?
আমি লিখিতে বসিয়াছি আর লিখাগুলো তাহাকে ছাড়িয়া যাইতে বলে। তখন বসিয়া ভাবিতেছি আমার আর এই লিখার সম্পর্কখানি অনেকটা সেই বালকের প্রেমের বিরহ অধ্যায় এর মতন। কোন এক অজ্ঞাত কারণে লিখাগুলো আমার সাথে সম্পর্ক ত্যাগ করিতে চায়। সেই বালকের বালিকার ন্যায়। বালক তাহায় প্রেমকে যখন পূর্ণরুপে উপভোগ করিতেছে তখন তাহাতে আসিয়াছে বিপত্তি। যেই বালিকার অবস্থান বালকের সর্বক্ষেত্রে, সেই বালিকাই বিপত্তি ঘটিয়াছে। তাহাকে নেশায় ফেলিয়া চলিয়া যাইতেছে। যেই বালক বালিকারে লইয়া দীর্ঘপথ পাড়ি দিবার তরে নিজেকে প্রস্তুত করিতেছে, সেই বালকের বালিকাই পথের মাঝে ফিরিয়া চলিতে চায়। বালক হতাশ হইয়া যায়।
তাহার মনে হইতে থাকে, কেহ তাহাকে গভীর সমুদ্রে নিয়া তাহার তরী কাড়িয়া লইল। বালক তাহার ও তাহার বালিকার প্রণয়, এক ছোট তরীর সহিত তুলনা করিতে থাকে। যাহার হালখানি বালকের হাতে আর পাল থাকে বালিকার নিয়ন্ত্রণে। বালক তাহার তরীর কোনো ক্ষতি হইতে দিতে চাহে না। তবুও যখন বালিকা পাল ছিড়িয়া চলিয়া যায় তখন তাহার তরীতে ফাটল দেখা যায়।
বালক তাহার প্রতিকার খুঁজিয়া পায় না। তাহার বুকের মাঝে সহস্র হাতুরির আঘাত অনুভূত হয় যাহাতে কোনোরুপ রক্তপাত হয় না।
বালিকা যখন হাসিমুখে বালকের তরী ডুবাইয়া যাইতে চায়। বালক তখন কিংকর্তব্যবিমূঢ় হইয়া যায়। যে প্রাণপণে তাহার তরী মেরামত করিবার জোর করে। কিন্তু বালিকা জানাইয়া দেয়, তাহা মেরামত করিবার নয়, তা এইবেলা ভাঙিয়া ফেলিতে হইবে।
ভীত বালকের আর কি বা করিবার থাকে।সে অভিমান ভাঙা শিখিয়াছে,রাগ ভাঙা শিখিয়াছে, কিন্তু এই তরী যে ভাঙিতে হইবে, ইহা তাহার কল্পনায় কখনো আসে নাহি।
বালিকা কি তবে তাহারে তরী ভাঙা শিখাইতে আসিয়াছিল?
কি করিয়া বালক এই তরী ভাঙিবে। যেই তরী গড়িয়াছিল প্রথম স্পর্শের অনুভূতি দিয়া।
বালক কিভাবে ভুলিয়া থাকিবে তাহার কবিতার খাতাখানি!
কি করিয়া ফিরিয়া আসিবে সেই নেশাময় কেশের নেশা হইতে?
যাহার প্রতিটি কোনায় কোনায় তাহার বিচরণ, সেই তৃণভূমি সে কি করিয়া ছাড়িবে?
বালিকার কি মনে পড়িবে না বালকে সেই বন্যতা!!!
কি হেতু বালিকা এরুপ করিতেছে তাহা বালক কল্পনা করিতে পারেনা। বালক তো বালিকারে ভাল বাসিয়াছে, সে বালিকারে নিয়াই থাকিতে চায়। বালিকা কি বালকে ভরসা পাইতেছেনা। তা কি করিয়া হইবে। বালক সমস্ত দূর্যোগ মোকাবিলা করিবার প্রস্তুতি লইয়াই তরী ভাসিয়াছে। কিন্তু তরী ভাঙিবার কথা তাহার ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক ধারণ করিতে পারে নাই।
আমার লিখাগুলিও আমার সাহিত এরুপ আচারণ করিতেছে।
আমাকে নেশায় রাখিয়া দূরে চলিয়া যাইতেছে। নিজেকে আমার অযোগ্য ভাবিতেছে।আমিও হতাশ হইয়া যাইতেছি। আমার সহিত আমার লিখাগুলিরও একখানা তরী রইয়াছে। ইদানীং দেখিতেছি সেই তরীর পালের এক পাশ খুলিয়া গিয়াছে। আমি অপেক্ষায় রইয়াছি যেদিন বালিকা সেই বালকের বুকে ফিরিয়া আসিবে সেইদিন আমার লিখাগুলিও আমার ভাবনায় ফিরিয়া আসিবে।
আমিও লিখিবো, একদিন লিখিবো। আমাকে যে লিখিতেই হইবে।
চলিবে.......

Comments